প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
saf television
saf television সিলেট আম্মরখানা রাজার গলি ২৭/২
01778291638 | shumonahmed1024@gmail.com
সারাদেশ

ঘুটঘুটে অন্ধকার, এক প্রান্তে আলোর রেখা—এমন গা ছমছমে সুড়ঙ্গ আছে বান্দরবানেই

বান্দরবান জেলার রাঙ্গামাটি উপজেলায় অবস্থিত গা ছমছমে সুড়ঙ্গটি সম্প্রতি স্থানীয় পর্যটন সংস্থা ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গুহার প্রবেশদ্বার থেকে অল্প দূরে ঘুটঘ
প্রতিবেদক: এস এ এফ সুমন আহমদ প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 21 Oct 2026, 02:15 PM
ঘুটঘুটে অন্ধকার, এক প্রান্তে আলোর রেখা—এমন গা ছমছমে সুড়ঙ্গ আছে বান্দরবানেই

বান্দরবান জেলার রাঙ্গামাটি উপজেলায় অবস্থিত গা ছমছমে সুড়ঙ্গটি সম্প্রতি স্থানীয় পর্যটন সংস্থা ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গুহার প্রবেশদ্বার থেকে অল্প দূরে ঘুটঘুটে অন্ধকারে মোড়া পথের এক প্রান্তে হালকা আলোর রেখা দেখা যায়, যা ভ্রমণকারীদের মধ্যে অজানা আশঙ্কা, ভয় ও রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার মিশ্র অনুভূতি জাগায়। এই প্রাকৃতিক গঠনটি কেবল ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মানসিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি বান্দরবানের অপ্রচলিত পর্যটন সম্পদকে নতুন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে।

গা ছমছমে সুড়ঙ্গের গঠন প্রাক-ইউগেনীয় শিলার ভাঙনের ফলে তৈরি হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে জমে থাকা শিলার চাপের ফলে গঠিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলে বহু গুহা অনুসন্ধান করা হয়েছে, তবে এই সুড়ঙ্গটি প্রথমবারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম ও মানচিত্রের সাহায্যে সুনির্দিষ্টভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় গাইড ও গবেষকরা জানান, পূর্বে এই গুহা স্থানীয় লোকজনের জন্য গোপন আশ্রয়স্থল ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের স্থান ছিল, তবে এখন এটি পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের নতুন চ্যালেঞ্জও উপস্থাপন করছে।

স্থানীয় প্রশাসক ও পর্যটন বিভাগ প্রধানের মতে, গুহার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং পর্যটকদের জন্য গাইডেড ট্যুর ব্যবস্থা করা হবে। গুহা অনুসন্ধানকারী কিছু পর্যটক তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলছেন, অন্ধকারের মধ্যে হালকা আলোর ঝলক দেখলে একধরনের রোমাঞ্চ ও প্রশান্তি অনুভব হয়, তবে একই সঙ্গে সঠিক সজ্জা ও গাইডের অভাবের কারণে ঝুঁকি বাড়ে। পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলছেন, গুহার অভ্যন্তরীণ ইকোসিস্টেম রক্ষা করা জরুরি, তাই অপ্রয়োজনীয় আলোর ব্যবহার ও শোরগোল কমাতে হবে।

অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ গুহা সংরক্ষণে বিশেষ দল গঠন করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে গুহার প্রবেশপথে নিরাপত্তা গেট, আলোকসজ্জা ও জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, স্থানীয় সম্প্রদায়কে গুহা সংরক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে পর্যটন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমন্বিতভাবে এগিয়ে যায়। এই উদ্যোগগুলো গুহাটিকে টেকসই পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি বান্দরবানের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার লক্ষ্য রাখে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ saf television