প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
saf television
saf television সিলেট আম্মরখানা রাজার গলি ২৭/২
01778291638 | shumonahmed1024@gmail.com
জাতীয়

রাত জেগে মায়ের লিখে দেওয়া নোট পড়ে সফলতা পেল তাসমিয়া

শিক্ষা জগতের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তাসমিয়ার নাম সম্প্রতি শিরোনামে উঠে এসেছে। রাত জেগে মায়ের লিখে দেওয়া নোটটি মনোযোগের সঙ্গে পড়ার পর তাসমিয়া একাডেমিক পরীক্ষায়
প্রতিবেদক: এস এ এফ সুমন আহমদ প্রকাশ: Oct 10, 2026 প্রিন্ট: 20 Oct 2026, 01:44 PM
রাত জেগে মায়ের লিখে দেওয়া নোট পড়ে সফলতা পেল তাসমিয়া

শিক্ষা জগতের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তাসমিয়ার নাম সম্প্রতি শিরোনামে উঠে এসেছে। রাত জেগে মায়ের লিখে দেওয়া নোটটি মনোযোগের সঙ্গে পড়ার পর তাসমিয়া একাডেমিক পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করে জিপিএ‑৫ পয়েন্টের ফলাফল পায়। এই সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত মেধার ফল নয়, বরং পারিবারিক সমর্থন ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। মায়ের নোটে যে অনুপ্রেরণামূলক কথাগুলো ছিল, সেগুলো তাসমিয়ার মনোবলকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গিয়েছে এবং তার অধ্যবসায়ের পথে আলোকসজ্জা করেছে। এই ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করেছে এবং শিক্ষার প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে।

তাসমিয়ার পিতামাতা, মা কোহিনুর পারভীন এবং বাবা আতিকুল ইসলাম, দুজনেই শিক্ষার গুরুত্বকে সর্বোচ্চ মানদণ্ডে রেখেছেন। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা সীমিত হলেও, তারা সন্তানকে সর্বোচ্চ সমর্থন প্রদান করতে কখনো পিছপা হননি। মা পারভীন রাতে তাসমিয়ার জন্য একটি নোট লিখে রেখেছিলেন, যেখানে তিনি তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন, অধ্যবসায়ের প্রয়োজন এবং আত্মবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছিলেন। বাবা আতিকুল ইসলাম নিয়মিত তাসমিয়ার পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাতের খাবার বাদ দিয়ে তাকে সহায়তা করতেন। এই ধরনের পারিবারিক পটভূমি তাসমিয়ার সাফল্যের মূলে রয়েছে, যা দেখায় যে কঠিন পরিস্থিতিতেও সঠিক মানসিকতা ও সমর্থন শিক্ষার সাফল্যকে সম্ভব করে তুলতে পারে।

সাফল্য অর্জনের পর তাসমিয়া, তার মা ও বাবা সকলেই আনন্দে ভরে উঠেছেন। তাসমিয়া নিজে বলেন, “মায়ের নোটটি আমার জন্য এক আলোকবর্তিকা, যা আমাকে কঠিন মুহূর্তে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।” মা পারভীন বলেন, “বাচ্চার স্বপ্নকে সঠিক দিশা দেখানোই মা হিসেবে আমার দায়িত্ব, আর তার সফলতা আমাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার।” বাবা আতিকুল ইসলাম যোগ করেন, “শিক্ষা হল দেশের ভবিষ্যৎ, তাই আমরা সন্তানকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছি।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও তাসমিয়ার এই সাফল্যকে প্রশংসা করে বলেন, “এমন সাফল্য আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গর্ব এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর জন্য উদাহরণস্বরূপ।” স্থানীয় সমাজও তাসমিয়ার অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে তাসমিয়ার সাফল্যকে উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় তাসমিয়ার মতো শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মানসিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করবে, যাতে পারিবারিক সমর্থন কম থাকলেও শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, মায়ের লিখিত নোটের মতো অনুপ্রেরণামূলক উপকরণকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচার করার জন্য কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন সাফল্যকে ধারাবাহিকভাবে রক্ষা করতে শিক্ষাব্যবস্থার সকল স্তরে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও নীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ saf television