প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
saf television
saf television সিলেট আম্মরখানা রাজার গলি ২৭/২
01778291638 | shumonahmed1024@gmail.com
আন্তজাতিক

খাইবার পাখতুনখাওয়া জরুরি অবস্থা এড়ানোর সুযোগ খুব কম: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় জরুরি অবস্থা এড়ানোর সুযোগ খুব কম।
প্রতিবেদক: এস এ এফ সুমন আহমদ প্রকাশ: Oct 10, 2026 প্রিন্ট: 21 Oct 2026, 03:55 PM
খাইবার পাখতুনখাওয়া জরুরি অবস্থা এড়ানোর সুযোগ খুব কম: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় জরুরি অবস্থা এড়ানোর সুযোগ খুব কম। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহে সংঘটিত সশস্ত্র হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত অবস্থায় পৌঁছেছে। নকভি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করা হলে জনসাধারণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা নীতি ও জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। এছাড়া, নকভি উল্লেখ করেন যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণও পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন এবং কোনো অতিরিক্ত উত্তেজনা এড়াতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এজন্য, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে দ্রুত সমন্বয় করে কার্যকরী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা, ধর্মীয় সংঘাত এবং রাজনৈতিক উগ্রতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত বছরই এই এলাকায় দুইটি বড় সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্বারা পরিকল্পিত বোমা হামলা ঘটেছিল, যার ফলে বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতা সংগ্রামের ফলে নিরাপত্তা গ্যাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে। সরকার পূর্বে একাধিকবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, তবে প্রতিটি ঘোষণার পরেও অব্যাহত হিংসা ও অবৈধ কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। এই ধারাবাহিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামী সংগঠন ও মানবাধিকার সমিতি নকভির মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপি স্পিকার জানান, জরুরি অবস্থা ঘোষণার দেরি জনগণের নিরাপত্তা অবহেলার সূচক এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা যুক্তি দেন যে অতিরিক্ত জরুরি অবস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল প্রয়োজন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের উদ্বেগের কারণ হল চলমান বিক্ষোভ ও রাস্তায় গুলিবর্ষণ, যা দৈনন্দিন জীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে দেশীয় শরণার্থী প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিক্রিয়ার পর সরকার তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্রতা বৃদ্ধি করে দুইটি রিজার্ভ ডিভিশনকে খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় মোতায়েন করেছে এবং ২৪ ঘণ্টা কঠোর কারারোধী অভিযান চালু করেছে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে সীমিত সময়ের জন্য সমগ্র জেলার উপর সাময়িক কড়া শাসন আরোপ করা হবে। সরকার এছাড়া তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উন্মোচন ও দমন পরিকল্পনা চালু করেছে। ভবিষ্যতে, নকভি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকীকরণ, সাইবার নজরদারি ও সম্প্রদায় ভিত্তিক শান্তি প্রোগ্রামকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ saf television