শনিবার দুপুরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় লিবিয়াপ্রবাসী তরিকুল ইসলামের মরদেহ। প্রায় আট মাসের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই মরদেহ দেশে ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগের স্রোত বইয়ে উঠেছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মরদেহটি নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে মরদেহটি ঢাকা থেকে উত্তোলন করে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা পাঁচটার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে বিশাল জনসমাগমে মরহুমের জানাজা নামানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজসেবীরা এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এই ঘটনার পটভূমি হিসেবে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে লিবিয়ায় প্রবাসী জীবন যাপন করছিলেন। গত বছর সেখানে তার মৃত্যু ঘটে, তবে প্রাথমিকভাবে পরিবারকে এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো হয়নি বা প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়ে পড়ে। লিবিয়ায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনি জটিলতা এবং দূতাবাসের কাগজপত্রের অভাবে মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘকাল স্থগিত ছিল। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন স্তরে চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরদেহ ফেরত আনার জন্য তারা অসংখ্য বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া পালন করতে বাধ্য হয়েছিল।
মরদেহ দেশে ফিরে আসায় স্থানীয় জনগণ ও পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরহুমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। স্থানীয় সমাজসেবীরা মন্তব্য করেছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্তরেই আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং তাদের মানসিক অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনাটি প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অনেকেই মনে করছেন প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সাহায্য তহবিল গঠন এবং দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে এবং পরিবারের মানসিক চাপ কমে আসবে। এই ঘটনাটি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরালো করেছে।